Friday, 2 September 2016

পান্তু আর ভুতুমের পরিচয় পর্ব

এই....তুই কেরে ?....


পান্তু মনের আনন্দে গাছের গুড়িতে হেলান দিয়ে ঘাসের ডগা চিবুচ্ছিল। তখন সে দেখতে পেল ভুতুম দুনিয়ার এক রাশ দু:খ নিয়ে কাঁদতে কাঁদতে তাকে ডিংগিয়ে গেল।

এই.....তুই কে ? পান্তু মহাবিরক্ত হয়ে আবার জিজ্ঞেস করে।

ভুতুম চমকে উঠে থেমে গেল। আশেপাশে তাকাল। ভুতুম দেখে একটি সবুজ রঙের মানুষ গাছে হেলান দিয়ে ঘাস চিবুচ্ছে.......মানুষ ? সে কোথায়? সে কি তাহলে ভুল করে........ভুতুম আর কিছু ভাবতে পারলনা।

ভুতুম ভয়ে ভয়ে উলটো জিজ্ঞেস করল.......তু.....তু......তুই কে ? ...

এবার পান্তুর অবাক হবার পালা। তাকে জিজ্ঞেস করছে সে কে ? তাকে ? এই পান্তুকে ? পান্তু মেজাজ খারাপ করে বলল...... তুই আমাকে উলটো জিজ্ঞেস করছিস আমি কে ? তাও আবার নাকি গলায়?

আমার গলা নাকি!!!!...অমা তুই কি বললি...আমাকে সবাই কত কদর করে আমার মিষ্টি পাখির মত গানের গলা নিয়ে....আর তুই বললি নাকি !!!!

ভুতুম কে দেখে মনে হচ্ছে সে এখনেই কেঁদে ফেলবে। পান্তুর একটু মায়া হল। চোখ কচলে বলল.... এই তোকে এমন ঝাপসা লাগছে কেন !

এবার ভুতুমের মনে আর কোন সন্দেহ রইল না। সে ভুল করে মানুষের রাজ্যে ঢুকে পড়েছে। এটা কেমন করে হল!!! কেমন করে হল এসব!!! সে ভুল করে তার অপাসিটি কমাবার কথাও ভুলে গেছে ! সে তার হাতে ডায়ালে দেখল অপাসিটি ৩০%......যা শুন্য হবার কথা! তার প্রচন্ড কান্না পাচ্ছে। মনে হচ্ছে এখনই ভে করে কেঁদে ফেলবে। কিন্তু এই অদ্ভুত সবুজ মানুষের সামনে একেবারেই কান্না করা যাবেনা। একদমই না!! তাহলে তো ভুত সমাজে একদমি মুখ দেখাতে পারবেনা!! এমনিতেই আজকে যা হল!!....বিকালের কথা মনে পড়ে ভুতুমের ভিতরটা হাহাকার করে উঠলো। এই কষ্ট সহ্য করতে পারিনি বলেই তো সে আজকে গ্রাম ছেড়ে......তার উপর ঐ অদ্ভুতুড়ে সবুজ রঙের প্রাণীটা যদি মানুষ হয়...তাহলেতো সব শেষ...সব শেষ!!!!

ভুতুম একটু সাহস নিয়ে বলল....এই ? তুই একটু ভয় পাবি আমাকে? একটু ? ভাই না ভাল!!!

এবার পান্তুর মেজাজ সত্যি সত্যি চড়ে গেল। তাকে বলছে ভয় পেতে !...আবার বলছে নাকি গলায় ভাই!!!...

পান্তু ঘাসের ডগাটা ছুড়ে ফেলে বলল......ইহহ তোকে ভয় পাব কেন?...এই পান্তু কাউকেই ভয় পায়না!...তুই আমাকে চিনিস আমি কে?

ভুতুম ভিতরে ভিতরে প্রচন্ড ভয় পেলেও সে আবার বলল মিনমিন করে ........তুই আমাকে ভয় পাবিনা কেন?

পান্তু বলল... কেন পাবো ?...তোকে কী ভয় পাবার কথা ?
তুই....তুই আমাকে ভয় পাবি....কারন........কারন...
কি কারন? পান্তু ভুড়ু কুচকে বলল....
কা...কা...কারন আ...আ...আ..আমি..........ভুত !!

কিছুক্ষনের জন্য সময় যেন থমকে দাড়ালো......

তুই ভুত!! হাহাহহাহাহ....পান্তু অট্রহাসিতে ফেটে পরে। পান্তু কিছুতেই তার হাসি থামাতে পারছেনা। হাহহাহাহহা...আমার সামনে একটা ভুত, তাও আবার কি বিশ্রি নাকি গলা!

ভুতুম আর পারলনা....আর পারলনা নিজেকে আটকাতে। পাহাড় প্রমান কষ্ট নিয়ে সে যে কেমন করে বেঁচে আছে তা কে বুজবে?... কে?.....

ভুতুম হু হু করে নাকি গলায় কেঁদে উঠল। ইনিয়ে বিনিয়ে কাঁদতে লাগলো। হেচকি টানতে টানতে কাঁদতে লাগলো। হেচকির মধ্যেই একটু জায়গা বের করে নিয়ে বলতে লাগলো............আমাকে যা ইচ্ছে বল...কিন্তু ভাই আমার পাখির মত গানের গলা নিয়ে কিছু বলিস না ....উ...উ.....উ......ভুতুম আবার কাঁদতে শুরু করল।

পান্তুর মনটা এবার একটু নরম হল ওর কান্না দেখে। বলল........তুই গান জানিস ?

ভুতুম মুহূর্তে কান্না থামিয়ে বলল....তুই শুনবি? শুনবি আমার গান? ভুতুম গোল গোল চোখে তাকিয়ে থাকে।

পান্তু বলল...ঠিক আছে....গা তো একটা গান ! শুনি.........

ভুতুম যেই না একটা গানের লাইন ধরল আর অমনি পান্তু হেসে ফেলে বলল...এটা গান ? ভুতুম যেই না আবার কান্না করার ভাব ধরল, পান্তুর মনে হল..... না থাক, যথেষ্ট হয়েছে। আর না। ভুতুম কে যথেষ্ট নাযেহাল করা গিয়েছে। আর ঐ ভয়াবহ নাকি গলার কান্না শোনার চাইতে ওর গান বরং অনেক ভালো। আর তাছাড়া, তাকে তো কেও কখনও ভাই বলে ডাকেনি......একটা ভুতই না হয়........পান্তুর মাথায় একটা সুদরপ্রসারি চিন্তা টুক করে খেলে যায়।

নাহ...যা। আর দুষ্টুমি করবোনা। চল...তোর গান শুনি। তবে এখানে না। আমি সব জায়গায় গান শুনিনা। চল এই বট গাছের ঐ মগডালে উঠি। দেখেছিস, কি সুন্দর এত্ত বড় চাঁদ উঠেছে।

ভুতুমের মনে পড়ে গেল এই পূর্ণিমা রাতের গানের আসরের জন্যেই না তার কত রাত গিয়েছে গানের রিহারসেল করার জন্যে.........আর আজ !!!!!!! ভুতুম আস্তে করে বলল .........চল......

ক্যামেরা আস্তে করে pan করে উপরে উঠবে। Close up এ বিশাল চাঁদের মাঝখানে silhouette form এ দেখা যাবে পান্তু আর ভুতুম গাছের ডালে বসে আছে। ভুতুম তার গান শুরু করল......

আমি এক মিষ্টি পাখি করি কিচির মিচির.........

ক্যামেরা ধীরে ধীরে zoom out হয়ে বিশাল বনটিকে দর্শককে দেখাবে।
সেই দিন থেকে জঙ্গল ঘেরা ছোট্ট একটি গাঁয়ের লোকজন গভীর রাতে অদ্ভুদ সব শব্দ শুনতে পায়.........

মোহাম্মন শিহাব উদ্দিন
০২ - ০৯ -১৬




Thursday, 1 September 2016

আমি, ঝড় আর আম

বাহিরে তুমুল ঝড় হাওয়া বইছে। আমাদের টিনের ছাদে আম গাছের ডাল
ক্রমাগত আঘাত করছে। আমি আমার ছোট জানালাটি খুললাম। উহ ! বাতাসের
ঝাঁপটায় জানালা খুলে রাখা দায়। দূরে তাকিয়ে দেখি ঝড় হাওয়ার তাণ্ডবে
নানা বাড়ীর নারকেল গাছগুলি একবার এদিকে, আরেকবার ওদিকে উলটে
পালটে যাচ্ছে। আকাশের মেঘগুলি যেন গুমরে গুমরে উঠছে। মেঘ এতো কাল
হয় বুঝি ! মেঘগুলো যেন সব দল বেধে জোট পাকাচ্ছে ! গুড়ুম.....গুড়ুম...

বুবুন!!! জানালা বন্ধ কর!!! মা চিৎকার করে উঠল। 

মা....এইটা কি কালবৈশাখী ?

আমি জানালা বন্ধ করে দরজার দিকে এগুলাম। মাথায় খালি ঘুরছে আম
গাছের বড় বড় আমগুলোর কথা। দৌড়ে বাইরে চলে এলাম।

বুবুন!!!! মা ডাকল পিছন থেকে। কিন্তু আমার শোনার সময় নেই।

আমার নানা বাড়ীতে ছিল অনেক অনেক গাছ। নানা তার বাড়ির চারিধারে
নারকেল, সুপুরি গাছ দিয়ে ঢেকে দিয়েছিলেন। আর ছিল ৪টি চার জাতের
বড় বড় আম গাছ। ছিল জাম,কলা,পেয়ারা,বড়ুই আর অরবড়ুই গাছ। আমার
মার ছিল সবজি আর ফুল গাছের নেশা। ঘরের চৌকাঠ পেরুলেই আমি সব
সময় রঙিন প্রজাপতি দেখতে পেতাম......

প্রজাপতি গুলো কোথায় গেল ? উহ!!!  ঝড়ো বাতাসে লাল প্রজাপতিটা 
উড়তে পারছেনা !!! চোখের কোনা দিয়ে দেখতে পেলাম নানী টিনের ছাদ থেকে
তার তেঁতুলের ঝাঁপি নামাচ্ছে..............ঝড় আইল ঝড় !!!  

আমি দৌড়াতে থাকলাম। ওইতো....আমাদের আম গাছ। বাতাসের বেগে
আম গাছের ডাল গুলি ভেঙে যাবেতো !!...আহহ ঐ আমগুলি
পড়ছেনা কেন?  একটা যদি পড়তো!!... আজ আম খেলে নানী বকবে না!!
এ যে ঝড়ে পড়া আম....আমি লুকিয়ে পারিনি!!!....আমার আম গাছের
দোলনাটা বাতাসের সাথে সাথে দুলছে। আমি আস্তে করে দোলনায় বসে
পড়লাম। প্রচণ্ড জংলি হাওয়ায় আম গাছের তলায় আমি দোলনায়
চরছি.....বাতাসে বুনো গন্ধ। চোখ বন্ধ করে কিছুক্ষণ ঝড়ের মাতাল হাওয়ায় সাথে খেলতে লাগলাম।
আর ভাবছি......

একটা আম যদি পড়তো....একটা আম......

আমার নানীর চিৎকার এখনও শুনতে পাচ্ছি দূর থেকে......বাতাসে শব্দ গুলো এলোমেলো হয়ে ভেঙ্গে যাচ্ছে...গুড়ো গুড়ো হয়ে যাচ্ছে ঝড়ের মত... 

ঝড় আইল......ঝড়...  




মোহাম্মদ শিহাব উদ্দিন।
২১-০৮-১৬