বাহিরে তুমুল ঝড় হাওয়া বইছে। আমাদের টিনের ছাদে আম গাছের ডাল
ক্রমাগত আঘাত করছে। আমি আমার ছোট জানালাটি খুললাম। উহ ! বাতাসের
ঝাঁপটায় জানালা খুলে রাখা দায়। দূরে তাকিয়ে দেখি ঝড় হাওয়ার তাণ্ডবে
নানা বাড়ীর নারকেল গাছগুলি একবার এদিকে, আরেকবার ওদিকে উলটে
পালটে যাচ্ছে। আকাশের মেঘগুলি যেন গুমরে গুমরে উঠছে। মেঘ এতো কাল
হয় বুঝি ! মেঘগুলো যেন সব দল বেধে জোট পাকাচ্ছে ! গুড়ুম.....গুড়ুম...
বুবুন!!! জানালা বন্ধ কর!!! মা চিৎকার করে উঠল।
মা....এইটা কি কালবৈশাখী ?
আমি জানালা বন্ধ করে দরজার দিকে এগুলাম। মাথায় খালি ঘুরছে আম
গাছের বড় বড় আমগুলোর কথা। দৌড়ে বাইরে চলে এলাম।
বুবুন!!!! মা ডাকল পিছন থেকে। কিন্তু আমার শোনার সময় নেই।
আমার নানা বাড়ীতে ছিল অনেক অনেক গাছ। নানা তার বাড়ির চারিধারে
নারকেল, সুপুরি গাছ দিয়ে ঢেকে দিয়েছিলেন। আর ছিল ৪টি চার জাতের
বড় বড় আম গাছ। ছিল জাম,কলা,পেয়ারা,বড়ুই আর অরবড়ুই গাছ। আমার
মার ছিল সবজি আর ফুল গাছের নেশা। ঘরের চৌকাঠ পেরুলেই আমি সব
সময় রঙিন প্রজাপতি দেখতে পেতাম......
প্রজাপতি গুলো কোথায় গেল ? উহ!!! ঝড়ো বাতাসে লাল প্রজাপতিটা
উড়তে পারছেনা !!! চোখের কোনা দিয়ে দেখতে পেলাম নানী টিনের ছাদ থেকে
তার তেঁতুলের ঝাঁপি নামাচ্ছে..............ঝড় আইল ঝড় !!!
আমি দৌড়াতে থাকলাম। ওইতো....আমাদের আম গাছ। বাতাসের বেগে
আম গাছের ডাল গুলি ভেঙে যাবেতো !!...আহহ ঐ আমগুলি
পড়ছেনা কেন? একটা যদি পড়তো!!... আজ আম খেলে নানী বকবে না!!
এ যে ঝড়ে পড়া আম....আমি লুকিয়ে পারিনি!!!....আমার আম গাছের
দোলনাটা বাতাসের সাথে সাথে দুলছে। আমি আস্তে করে দোলনায় বসে
পড়লাম। প্রচণ্ড জংলি হাওয়ায় আম গাছের তলায় আমি দোলনায়
চরছি.....বাতাসে বুনো গন্ধ। চোখ বন্ধ করে কিছুক্ষণ ঝড়ের মাতাল হাওয়ায় সাথে খেলতে লাগলাম।
আর ভাবছি......
একটা আম যদি পড়তো....একটা আম......
আমার নানীর চিৎকার এখনও শুনতে পাচ্ছি দূর থেকে......বাতাসে শব্দ গুলো এলোমেলো হয়ে ভেঙ্গে যাচ্ছে...গুড়ো গুড়ো হয়ে যাচ্ছে ঝড়ের মত...
ঝড় আইল......ঝড়...
মোহাম্মদ শিহাব উদ্দিন।
২১-০৮-১৬
No comments:
Post a Comment